Skip to content

Biography

আহমেদ উল্লাহ্
কবি, কথাসাহিত্যিক ও গীতিকার(বাংলাদেশ বেতার)

জন্ম : কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় সুশিক্ষিত ও স্নিগ্ধময় এক গ্রাম জয়পুর; যে গ্রামের দুই মেরুকে ধনুকের মতো বাঁক হয়ে তিতাস নদী পরম মমতায় স্নেহ—ভালোসার হাত বাড়িয়ে রেখেছে। ওই স্নিগ্ধময় জয়পুর গ্রামের মাস্টার বাড়ির মো. মাজহারুল ইলমাম মাস্টারের ঔরসে, মমতাময়ী রাবেয়া ইসলামের গর্ভে কবি আহমেদ উল্লাহ ২৯ বৈশাখ ১৩৮৮বঙ্গাব্দ, ১৩ মে ১৯৮১খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। কবির দাদা মো. ওমর আলী মাস্টারের গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষতার পেশার প্রেক্ষিতেই ওই বাড়িটি মাস্টার বাড়ি হিসেবে এলাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত। এছাড়াও কবির পিতা মো. মাজহারুল ইসলাম ছিলেন কুমিল্লার হোমনা সরকারি পাইলট(বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য ও আদর্শ শিক্ষক এবং জ্ঞানবাদী মানুষ; সারাজীবন যিনি বইয়ের সাথে অনন্য সম্পর্ক স্থাপন করে গেছেন।

বাবা—মায়ের কোল চড়ে ওদের আদর্শের ছায়াতলেই কবির বেড়েওঠা এবং শিক্ষাদীক্ষার হাতেখড়ি। জন্মের পর থেকে কবির দূরন্ত শৈশব কেটেছেÑ জয়পুর এবং কবির মাতুলালয় অনন্তপুরের মাঠ—নদী, শ্মশান—গোরস্থান দাপিয়ে; আর স্নিগ্ধময় তিতাসের মৃদুমন্দ ঢেউ ভেঙে; কখনো ফসলের মাঠে কিংবা নদীর ঘাটে বাঁশি বাজিয়ে।

শিক্ষা: জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে, কবি মাছিমপুর আর.আর ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। ওখানে তিন বছর পড়াশুনার পর স্কুল ত্যাগ করেন। ক্লাশের নির্দিষ্ট বইয়ের সীমা ছেড়ে কবিমন ছুটে বেড়াতে থাকে প্রকৃতির নিগূঢ় সহস্য উদঘাটনসহ অসীম জ্ঞানের জগতে; জগত ও জীবনের রহস্য নিয়ে তিঁনি ভাবতে শুরু করেন!

কবির উড়নচণ্ডীর মতো ছুটে বেড়ানো এবং প্রকৃতির নিগূঢ় তথ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে এবং ভাবতে শুরু করেত দেখে, বাবা তাঁকে নিয়ে ভর্তি করালেন নিজ কর্মস্থল হোমনা সরকারি পাইলট(বালক) উচ্চ বিদ্যালয়ে; ওখান থেকেই ১৯৯৬ইং সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন; পর্যায়ক্রমে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও সর্বশেষ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হওয়ার লক্ষ্যে তিনি বি.এড ডিগ্রিও অর্জন করেন; এছাড়াও তাঁর রয়েছে বহুবিধ প্রশিক্ষণ। বর্তমানে তিঁনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পি.এইচ.ডি গবেষণায় অধ্যায়নরত।

কর্মজীবন: বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে বেশ কবছর চাকরির পর বর্তমানে রাস্ট্রায়াত্ত্ব অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড—এ কর্মরত আছেন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে একজন প্রতিভাধর, স্বভাবজাত ও সৃজনশীল কবি, কথাশিল্পী এবং গীতিকার হিসেবে বেশ সুপরিচিত কবি আহমেদ উল্লাহ্। শৈশব থেকেই তিঁনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী, জ্ঞানার্জন ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ; সেই আগ্রহ ও অনুরাগ থেকেই বই পড়ার নেশার পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি। নিরন্তর লিখে চলেছেনÑ কবিতা, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাাটক এবং সংগীত। আধ্যাত্মিক, দেশপ্রেম, প্রেম—আনন্দ, বিরহ—বিচ্ছেদ, লৌকিক ও অলৌকিক চেতনাবোধকে আধুনিক বাস্তবতায় প্রাণবন্ত ও অতিজ্জ্বোল করে তুলে ধরে চলেছেন তার রচিত সংগীত ও সাহিত্যকর্মে।

জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হচ্ছেÑ কবির লেখা গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধসমূহ; জাতীয় পত্রিকায় প্রথম ছাপানো ছোটোগল্প ‘ঢেউ’। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত একজন গীতিকার; বাংলাদেশ বেতার, বিটিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও গণমাধ্যমে রেকর্ড হয়ে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে তাঁর লেখা কবিতা ও সংগীতসমূহ।

সমাজকে সুশীল ও আধুনিক সভ্যতায় আলোকিত করতে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিবিড়ভাবে জড়িত। এলাকার গরিব, অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার অসীম ভালোবাসা ও সত—সাহসিকতায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে তিনি একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। সমাজের সুশিক্ষিত যুবকদের সংঘটিত করে শুদ্ধ সমাজ গড়ার কাজে লেখনির পাশাপাশি সরাসরি সংগ্রামেও লিপ্ত হয়ে আছেন। কবির বিশ্বাসÑ সমাজের যুবসমাজকে সুশীল করে তুলতে পারলেই সমাজকে কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও কুশিক্ষার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই সমাজ গড়ার জন্য সুশিক্ষিত যুবকদের নেতৃত্বের জন্য আহ্বান করে থাকেন!

এছাড়াও কবি আহমেদ উল্লাহ্ একজন জ্ঞান ও গুরুবাদে বিশ্বাসী মানুষ! ¯্রষ্টা—সৃষ্টির নিগুঢ় রহস্য, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন ও জগতের শাশ্বত সত্য, ধমীর্য়—আধ্যাত্মিক দর্শন, বিশ্ব—ব্রহ্মাণ্ডের সর্বকালের শ্বাশত সত্যকে নিয়ে গভীর অনুশীলন করে থাকেন; যার প্রেক্ষিতে অগণিত জ্ঞানপিপাসু মানুষ কবিকে কেন্দ্র করে চিরায়ত সত্যসন্ধানে পথ এগিয়ে চলেছেন।

আধ্যাত্মিক ও মানবিক চেতনায় উদ্দ্বীপ্ত কবি ক্ষয়িষ্ণু সমাজকে ভেঙে নতুন করে সাজানো এবং পুরনো আমলের ধ্যান—ধারণার জাল ছিঁড়ে নতুনরূপে আধুনিক সমাজ ও সভ্যতা গড়ার রূপরেখা পাওয়া যায় তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মে। মানবতা ও দেশপ্রেম তাঁর সাহিত্যসাধনার প্রধান উপজীব্য বিষয়। কবি আহমেদ উল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যেকে অনির্বান নক্ষত্রের মতো সুদূর তারার দেশে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে বিশ্বাস রাখি।